১৮/০৬/২০২৪ ইং
Home / জাতীয় / সুস্থ ও স্টেরয়েডমুক্ত কোরবানির পশু কিভাবে চিনবেন?

সুস্থ ও স্টেরয়েডমুক্ত কোরবানির পশু কিভাবে চিনবেন?

সুস্থ ও স্টেরয়েডমুক্ত কোরবানির পশু কিভাবে চিনবেন?

নিউজ ডেস্ক, তালাশটিভি টোয়েন্টিফোর ডটকম

প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ই জুলাই ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ত্যাগের মহিমায় আর কয়েক দিন পর উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। শুরু হয়ে গিয়েছে পশুর হাটে কেনাবেচা। তাই কোরবানির উদ্দেশ্যে কেনা পশুর কয়েকটি বাহ্যিক অবস্থা দেখলেই জানা যাবে পশুটি সুস্থ আছে কিনা। তা ছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, স্টেরয়েড কিংবা গ্রোথ হরমোন দিয়ে হৃষ্টপুষ্ট বানানোর ঘটনা বর্তমানে নেই বললেই চলে। তবে সেক্ষেত্রেও আছে চেনার উপায়। নিরাপদ কোরবানির ক্ষেত্রে পশু পালনকারী, পশু বিক্রেতা এবং ক্রেতাকে কিছু জিনিস লক্ষ্য রাখার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। পশু যারা প্রতিপালন করেন তাদের ক্ষেত্রে পশুকে পরিষ্কার, উঁচু, শুকনো ও আলো-বাতাসপূর্ণ জায়গায় রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পশুকে নিরাপদ পানি ও খাবার প্রদান, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে পশু পালন, রোগাক্রান্ত পশু ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর বলছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত স্টেরয়েড হরমোন এন্টিবায়োটিক ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার ও বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রাণীর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হলে ‘প্রত্যাহারকাল’ শেষ হওয়া পর্যন্ত পশু বিক্রয় থেকে বিরত থাকতে হবে। যারা পশু বিক্রি করবেন তাদের জন্য বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে পশু বিক্রয় করতে হবে। পরিবহণের সময় পশুর সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। বিক্রয়ের জন্য পশু সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান হতে বিরত থাকতে হবে এবং হাটে/বাজারে পশু অসুস্থ হলে নিকটস্থ প্রাণী চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে।কোরবানির জন্য সুস্থ-সবল পশু কেনার ক্ষেত্রে বাহ্যিকভাবে চেনার উপায় হচ্ছে সতেজ, স্বাভাবিক ভঙ্গি, জাবর কাটা, নাকের নিচে লোমবিহীন অংশে (মাজল) ভেজা ভাব ও উজ্জ্বল চেহারা থাকবে। পাশাপাশি সুস্থ পশুর মধ্যে একটা চঞ্চলতা সবসময় থাকবে। তার গায়ে হাত দিলে চামড়াতে একটু কাঁপুনি দেবে এবং মাছি তাড়ানোর মতো করে লেজ নাড়াবে।

পশু অসুস্থ কিনা তা বুঝতে হলে কিছু বিষয় লক্ষ্য করতে হবে। অসুস্থ পশু পিঠ ওপরের দিকে বাঁকা করে দাঁড়িয়ে থাকে, ভাঙাস্বরে বেশি বেশি ডাকাডাকি করে। এ ছাড়া অতিরিক্ত পরিমাণে লাফানো এবং পানি খেতে অনীহা বা ভয় পায়। পশু রোগাক্রান্ত হলে শরীরের চামড়া কুচকে অতিরিক্ত হাড্ডিসার হয়ে যায়। এ ছাড়া পশুর চামড়ায় উষ্কখুষ্ক লোম, ক্ষত ও চর্মরোগের উপস্থিতি দেখা গেলেও বুঝতে হবে তার সেটি রোগাক্রান্ত। পাশাপাশি রোগাক্রান্ত পশুর মুখ থেকে অনবরত লালা ঝরা, মুখে ও পায়ে ক্ষত, তীব্র ডায়রিয়া এবং পায়ুপথে পুঁজ, ওলান/অণ্ডকোষ অস্বাভাবিক ফোলা থাকা, শ্বাসকষ্ট, নাকে সর্দি ভাব ও রক্ত মিশ্রিত গাঁজলা (ঘন ফেনা) থাকার কথাও বলা হয়েছে।অসুস্থ পশুর নিস্তেজ ভাব, ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস, মুখমণ্ডল, চোয়াল ও শরীরে কোন অংশের অস্বাভাবিক ফোলা যেখানে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে ঐ স্থানের মাংস দেবে যায় এবং আগের অবস্থায় ফিরে আসতে অনেক সময় লাগে– এমন বিষয়গুলো নজর রাখার প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পশুর কানের গোঁড়ায় হাত দিয়ে স্পর্শ করলে জ্বরের মতো অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হতে পারে রোগাক্রান্ত হলে।

পশু কেনার ক্ষেত্রে কোরবানির জন্য প্রাপ্তবয়স্ক গরু কমপক্ষে ২ বছর বয়স এবং কমপক্ষে ১ বছর বয়সের ছাগল/ভেড়া কিনতে হবে। আর কোরবানির জন্য গর্ভবতী পশু ক্রয় থেকে বিরত থাকতে হবে। তা ছাড়া গরুটির দাঁত দেখে বয়স বোঝা যায়। সুস্থ, পূর্ণবয়স্ক গরুর দাঁত দেখে ৫ বছর পর্যন্ত বয়স শনাক্ত করা যায় নিখুঁতভাবে। দুই বছর বয়সী একটি সুস্থ গরুর দুটি স্থায়ী কর্তন দাঁত থাকে। ৩ বছর বয়সে চারটি, ৪ বছর বয়সে ছয়টি ও ৫ বছর বয়সে পুরো মুখে সর্বমোট আটটি স্থায়ী কর্তন দাঁত থাকে। দাঁতগুলো অক্ষত এবং দেখতে সুন্দর হয়।প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ডা. মো: শাহিনুর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সুস্থ পশুর মুখে খাবার তুলে দিলে জিভ দিয়ে টেনে নেবে। অসুস্থ পশু সচরাচর খাবার খেতে চায় না। আর সুস্থ পশু স্বাভাবিকভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে। শুয়ে থাকা অবস্থায় সুস্থ পশু জাবর কাটে। অতিরিক্ত পেট ফোলা থাকবে না। সুস্থ গরু চঞ্চল, উৎফুল্ল থাকবে। এই বিষয়গুলো লক্ষ্য করলে আমরা সুস্থ সবল গরু কোরবানি দিতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় স্টেরয়েড দিয়ে গরু মোটাতাজা করার কথা বলা হয়। স্টেরয়েড দিয়ে গরু মোটাতাজা করার প্র্যাকটিস আমাদের দেশে খুবই কম হয়। বাস্তবে যা না হয় তার চেয়ে প্রচার বেশি হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গ্রোথ হরমোন আছে। সেই হরমোনের মাধ্যমে সীমিত আকারে বিভিন্ন দেশে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সেটি আমদানিও হয় না। সুতরাং হরমোন ব্যবহারের কথা যদি বলা হয় সেটি আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয় না। তারপরেও চোরাই পথে যদি এসেও থাকে তাহলে সেই গরুর মধ্যে দেখা যাবে স্বাভাবিক চঞ্চলতা থাকবে না। সেই গরু অতিরিক্ত মোটা হবে, তার পাশাপাশি শরীরে যদি আঙ্গুল দিয়ে চাপ দেওয়া হয়, তাহলে সেই জায়গাটি পানি ফোলা রোগীর মতো দেবে যাবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন কোরবানির পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিমের কার্যক্রমসহ অন্যান্য কার্যক্রম তদারকি করবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এজন্য ৯টি মনিটরিং টিম গঠন করে নয়জন উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাকে নির্ধারিত কোরবানির পশুর হাটে দায়িত্ব দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৫ই জুলাই) এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। অপরদিকে দুই সিটির আওতাধীন কোরবানির পশুর হাটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ৪টি মনিটরিং টিম, ২০টি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম ও ১টি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিম কাজ করবে।

Print Friendly, PDF & Email

About newsdesk

Check Also

বঙ্গবন্ধুর ১০৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শওকত ইরফান রিয়াদের উদ্যোগে পবিত্র খতমে কুরআন ও দো’য়া অনুষ্ঠিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *