২২/০৬/২০২৪ ইং
Home / অর্থনীতি / কৃষি সংবাদ / আম নষ্ট হওয়ায় বাগানেই জ্ঞান হারালেন চাষি!

আম নষ্ট হওয়ায় বাগানেই জ্ঞান হারালেন চাষি!

আম নষ্ট হওয়ায় বাগানেই জ্ঞান হারালেন চাষি!

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ই জুন ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঝিনাইদহে আম চাষিদের ঘরে ঘরে এখন কান্না। লকডাউনের কারণে বাজার পড়ে যাওয়া ও যানবাহনের অভাবে বাগানেই আম পচে যাচ্ছে। করোনাকালীন সময় পুলিশ ও প্রশাসনের বাধায় আম বাজারে তুলতে পারছে না চাষিরা। ফলে ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেয়ায় চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে।

ঝিনাইদহ কৃষি অফিসে তথ্যমতে এ বছর জেলায় দুই হাজার ২১১ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৫৮০ হেক্টর, কালীগঞ্জে ৩৭০ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে ৭১০ হেক্টর, মহেশপুরে ৫০০ হেক্টর, শৈলকূপা ২৫ হেক্টর ও হরিণাকুন্ডুতে ২৬ হেক্টর। এসব বাগানে এ বছর ৩৩ হাজার ৫১১ টন আম উৎপাদন হয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের বুলবুল আহমেদ বাপ্পি ঋণ নিয়ে ছয় বিঘা জমিতে আম্রপালি জাতের আম চাষ করেছিলেন। ব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিওতে তার দেনা ছয় লাখ টাকা। কিন্তু তিনি এখন ভালো দামে আম বিক্রি করতে পারছে না। দাম না পাওয়ায় গাছেই তার আম পেকে নষ্ট হচ্ছে।

একই গ্রামের সন্টু জোয়ারদার বাগানে আমের ব্যাপক ক্ষতি দেখে শনিবার দুপুরে বাগানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তিনিও ঋণ নিয়ে আম চাষ করেছিলেন। ওই গ্রামের সাজেজার রহমানের সবচেয়ে বেশি আম বাগান রয়েছে। তিনি কিছু আম বিক্রি করতে পারলেও এখন আর ব্যাপারীরা আম কিনতে আসছে না। কাশিমনগর গ্রামের মোদাচ্ছের, তোফাজ্জল হোসেন ও আলীনুর রহমানও জানালেন তাদের কষ্টের কথা।

আম চাষি বুলবুল আহমেদ বাপ্পি জানান, এখন আমের ভরা মৌসুম চলছে। অথচ বাগানে কোনো ব্যাপারী আসছে না। কিছু ব্যাপারী বাগান কিনে বায়না করে গেলেও তাদের অপেক্ষায় থেকে থেকে বাগানের আম গাছেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সন্টু জোয়ারদার বলেন, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, ফরিদপুর ও পিরোজপুর জেলার ব্যাপারীদের পদভারে এ সময় আম বাগান মুখরিত থাকতো। এখন আর কেউ আম কিনতে আসছে না। কিছু ব্যাপারী আসলেও তারা ৬৮০ টাকা মণ আম কিনতে চাচ্ছেন। এ দামে আম বিক্রি করলে তাদের লোকসান হবে।

এলাকার বড় আম চাষি সাজেজার রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় আমের মোকাম জেলার কোটচাঁদপুরে। সেখান থেকে ১০ দিন আগেও দেড়শ থেকে দুইশ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হতো। এখন ৫০ ট্রাক আমও বিক্রি হচ্ছে না।

কোটচাঁদপুরের আড়তদার মোমিনুর রহমান বলেন, করোনার কারণে আম বাজারজাত ও পরিবহন করা যাচ্ছে না। শনিবার পর্যন্ত সবচেয়ে ভালে আম বিক্রি হয়েছে এক হাজার ২০০ টাকা মন। আর বেশির ভাগ আম ৪০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো: আজগর আলী বলেন, চাষিদের আম পরিবহন সহজতর করার জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু করোনার ভয়াল বিস্তার ও নানা বিধি-নিষেধের কারণে চাষিরা আম বিক্রি করতে পারছে না।

Print Friendly, PDF & Email

About newsdesk

Check Also

বঙ্গবন্ধুর ১০৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শওকত ইরফান রিয়াদের উদ্যোগে পবিত্র খতমে কুরআন ও দো’য়া অনুষ্ঠিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *