

🕒 অপরাধ ☰ মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
👤✒নিজস্ব প্রতিবেদক | নিউজ ডেস্ক- তালাশটিভি টোয়েন্টিফোর | আগামী ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই সারা দেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ ঘোষণা দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্ব সম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিসের জবাব দেন এই মন্ত্রী।
সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুক তার নোটিসে তিনি বলেন, ‘রাজধানীর অভিজাত এলাকার আবাসিক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধ করা যাচ্ছে না। বার বার অভিযান চালানো হলেও বন্ধ হচ্ছে না। কেউ কেউ ঠিকানা পরিবর্তন করে। কেউ কিছু কিছু প্রশাসনের ইঙ্গিতে চালাচ্ছে এই অবৈধ ব্যবসা।’
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে জুয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। আগামী ৩০ এপ্রিল সংসদের সেশন শেষ হওয়ার পর আমরা সারা দেশে একটি সুসমন্বিত অভিযান পরিচালনা করব। এ দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে এর কোনো বিকল্প নেই।’
সিসা বারের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলকে অভিযুক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার ছত্র-ছায়ায় গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে ব্যবসার আড়ালে অবৈধ সিসা বার ও মাদক স্পট গড়ে উঠেছিল; সেখানে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড হতো। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে সিসা বার বন্ধ করা হলেও পরে প্রভাব খাটিয়ে তা চালু করা হতো।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে এসব স্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।’
অভিজাত এলাকায় ঠিকানা পরিবর্তন করে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাতে কেউ অবৈধ ব্যবসা করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এসব অবৈধ ব্যবসায় মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মাধ্যমেও ট্রেড লাইসেন্স বিহীন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ৩০ এপ্রিলের পর শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ অভিযানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
🪐বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে সবার আগে আপডেট খবর পেতে ভিজিট করুন- talashtv24🪐
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন
স্বত্ব © ২০২৪ তালাশটিভি২৪ www.talashtv24.com